Gulfzi Header - Redesign

কুয়েতের শ্রম আইন ২০২৬ — ছুটি, ওভারটাইম ও চাকরি শেষে ইন্ডেমনিটির (EOSB) হিসাব

📅 সর্বশেষ হালনাগাদ: নভেম্বর ২০২৬
⚡ সংক্ষিপ্ত উত্তর: কুয়েতে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে শ্রম আইন নং ৬/২০১০। এই আইনে বেতনসহ বার্ষিক ছুটি, ওভারটাইমের বাড়তি মজুরি এবং এক বছর বা তার বেশি কাজ করলে চাকরি শেষে ইন্ডেমনিটি (End of Service Benefit) পাওয়ার অধিকার আছে। কুয়েতে বেতনের ওপর ব্যক্তিগত আয়কর নেই।

কুয়েতের শ্রম আইন কাদের জন্য?

কুয়েতের বেসরকারি খাতে কাজ করা কুয়েতি ও প্রবাসী সব শ্রমিকের ওপর এই আইন প্রযোজ্য। আইনে বলা আছে, শ্রমিকের জন্য আইনের দেওয়া অধিকারের চেয়ে কম সুবিধা দিয়ে চুক্তি করা যায় না। কোনো চুক্তি এর চেয়ে কম দিলে সেই অংশ বাতিল বলে গণ্য হয়। নিয়োগকর্তা চাইলে আইনের চেয়ে বেশি সুবিধা দিতে পারেন।

কাজের সময় ও ছুটি

বিষয়সাধারণ নিয়ম
কাজের সময়সাধারণত দিনে ৮ ঘণ্টা ও সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা (রমজানে কম)
সাপ্তাহিক ছুটিসপ্তাহে ১ দিন, সাধারণত শুক্রবার
ওভারটাইমসাধারণ মজুরির ওপর অতিরিক্ত অন্তত ২৫%
বার্ষিক ছুটিবছরে ৩০ কর্মদিবস বেতনসহ, নির্দিষ্ট সময় কাজ করার পর
ছুটির হিসাবসরকারি ছুটি ও অসুস্থতার ছুটি বার্ষিক ছুটির মধ্যে ধরা হয় না

বার্ষিক ছুটি পাওয়ার জন্য এক বছর ধারাবাহিক কাজ করতে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে নয় মাসের পর থেকে ছুটি নেওয়া যায়। না নেওয়া ছুটির জন্য চাকরি শেষে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

চাকরি শেষে ইন্ডেমনিটি (EOSB) কী?

ইন্ডেমনিটি হলো চাকরি শেষে নিয়োগকর্তার দেওয়া একটি এককালীন টাকা, যা আপনার কাজের বছর ও বেতনের ওপর নির্ভর করে। এটা পেনশন ফান্ড নয়, নিয়োগকর্তা সরাসরি দেন। আইন অনুযায়ী কমপক্ষে এক বছর কাজ করলে এটি পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়। প্রবাসীরাও এই সুবিধা পান।

কীভাবে হিসাব হয়?

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ৫ বছরের প্রতি বছরের জন্য ১৫ দিনের বেতন এবং এরপরের প্রতি বছরের জন্য ১ মাসের বেতন পাওয়া যায়। মোট ইন্ডেমনিটি দেড় বছরের বেতনের বেশি হয় না। নিচে কাজের মেয়াদ ও কে চাকরি ছাড়ছেন, তার ওপর নির্ভর করে কী পরিমাণ পাবেন, তার সারসংক্ষেপ:

পরিস্থিতিকত পাবেন
নিয়োগকর্তা চাকরি শেষ করলেপূর্ণ ইন্ডেমনিটি
নিজে চাকরি ছাড়লেন, ৩ বছরের বেশি কিন্তু ৫ বছরের কম কাজ করেইন্ডেমনিটির অর্ধেক
নিজে চাকরি ছাড়লেন, ৫ বছরের বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম কাজ করেইন্ডেমনিটির দুই-তৃতীয়াংশ

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সঠিক হিসাব আপনার চুক্তি ও আইনের ধারার ওপর নির্ভর করে। তাই চাকরি ছাড়ার আগে শ্রম বিভাগ বা দূতাবাস থেকে মিলিয়ে নিন।

নিজের পাওনা বুঝে নেওয়ার ধাপ

১
চুক্তির কপি, বেতনের প্রমাণ ও কাজের তারিখ সংরক্ষণ করুন।
২
চাকরি শেষের আগে নিয়োগকর্তার কাছে ইন্ডেমনিটি ও বাকি ছুটির টাকার হিসাব চান।
৩
নিয়োগকর্তা না দিলে কুয়েতের জনশক্তি কর্তৃপক্ষে (PAM) অভিযোগ করুন।
৪
সমাধান না হলে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্য নিন এবং প্রয়োজনে আইনি পথে যান।
⚠️ মনে রাখুন: পাসপোর্ট নিয়োগকর্তার কাছে জমা রাখা বা বেতন আটকে রাখা অধিকার লঙ্ঘন হতে পারে। সব টাকা দেওয়ার আগে লিখিত হিসাব ও রসিদ নিন। হিসাবের চূড়ান্ত অঙ্ক ও আইনি পরামর্শের জন্য বিশেষজ্ঞ বা দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

প্রবাসী হলে কি ইন্ডেমনিটি পাব?
হ্যাঁ, কুয়েতের শ্রম আইনের আওতাভুক্ত প্রবাসী শ্রমিকরাও ইন্ডেমনিটি পান।
এক বছরের কম কাজ করলে কি ইন্ডেমনিটি পাব?
সাধারণত ইন্ডেমনিটি পাওয়ার জন্য অন্তত এক বছর কাজ করতে হয়।
ছুটির টাকা কি আলাদা পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, না নেওয়া বার্ষিক ছুটির জন্য চাকরি শেষে টাকা পাওয়া যায়।
কুয়েতে কি আয়কর কাটে?
না, বেতনের ওপর ব্যক্তিগত আয়কর নেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

সোর্স: Kuwait Private Sector Labour Law No. 6 of 2010, Public Authority for Manpower (PAM) Kuwait
এই লেখাটি কি সহায়ক হয়েছে?
Scroll to Top