Gulfzi Header - Redesign

ইরাকে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ ২০২৬ — নতুন চুক্তি, নিরাপত্তা ও ঝুঁকি

📅 সর্বশেষ হালনাগাদ: নভেম্বর ২০২৬
⚡ সংক্ষিপ্ত উত্তর: ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইরাকের যৌথ কমিটির বৈঠকে ইরাক বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ জানায়। শর্ত হলো, শুধু চিহ্নিত খাতে ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হবে এবং ইরাকি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র বাংলাদেশ দূতাবাস সত্যায়ন করবে। তবে ২০২৬ সালের আঞ্চলিক যুদ্ধ-পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। তাই ‘ইরাকে ভিসা রেডি’ শুনেই টাকা দেবেন না।

ইরাকে শ্রমিক নিয়ে কী ঘটেছে?

২০২৪ সালের মার্চে ইরাকের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশ নিয়ে সরকারের একটি সিদ্ধান্ত ছিল। তবু সেই সময় অনেক বাংলাদেশি, বিশেষ করে কাগজবিহীন শ্রমিক, ইরাকে ঢুকেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসকে এমন শ্রমিকদের বৈধ করার জন্য ইরাকি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলেন। এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরের বৈঠকে দুই দেশ নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন এবং ইরাকে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধকরণ নিয়ে আলোচনা করে।

নতুন সমঝোতার মূল শর্ত

বিষয়কী বলা হয়েছে
ভিসার ধরনচিহ্নিত খাতে ইরাকি সরকার ওয়ার্ক ভিসা দেবে
নিয়োগের শর্তইরাকি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র বাংলাদেশ দূতাবাস সত্যায়ন করবে
চুক্তিযাত্রার আগেই কর্মীকে কাজের চুক্তিতে সই করতে হবে
কাদের নেওয়া হবেদক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নিয়ে আলোচনা হয়েছে
ইরাকে থাকা কর্মীঅনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণের চেষ্টা

এগুলো সরকারি পর্যায়ের সমঝোতার কথা। বাস্তবে নিয়োগ কবে ও কোন খাতে শুরু হবে, তা BMET ও দূতাবাসের ঘোষণা থেকে মিলিয়ে নিন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি কেমন?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা শুরু হলে বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাস ইরাকে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং ইরাক সরকারের নির্দেশ মানতে বলেছিল। পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। তাই যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সর্বশেষ সতর্কবার্তা দেখা জরুরি।

🚨 প্রতারণা থেকে সাবধান: ভিজিট ভিসায় ইরাকে গিয়ে কাজ খোঁজা বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে ২৭ জন শ্রমিক ইরাকে গিয়ে চাকরি না পেয়ে আটকে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে, কারণ তাঁদের চাহিদাপত্র দূতাবাস সত্যায়ন করেনি। তাই চাহিদাপত্র সত্যায়ন ও লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না।

নিরাপদে কী যাচাই করবেন?

১
এজেন্সির লাইসেন্স BMET-এর মাধ্যমে যাচাই করুন।
২
ইরাকি কোম্পানির চাহিদাপত্র বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাস সত্যায়ন করেছে কি না জানুন।
৩
বেতন, থাকা-খাওয়া ও কাজের জায়গা লিখিত চুক্তিতে দেখুন।
৪
কাজের এলাকা সংঘাতপ্রবণ কি না আগে জেনে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

ইরাকে কি এখন ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যাচ্ছে?
সরকারি সমঝোতা হয়েছে, কিন্তু নিয়মিত নিয়োগ শুরুর খবর BMET বা দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
ইরাকে কি এখন যাওয়া নিরাপদ?
আঞ্চলিক যুদ্ধ-পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। সর্বশেষ সতর্কবার্তা না দেখে যাবেন না।
চুক্তি ছাড়া গেলে কী হবে?
অনেক সময় কাজ না পেয়ে আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই যাত্রার আগে চুক্তি সই বাধ্যতামূলক বলে সমঝোতায় রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সোর্স: বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, BMET, বাংলাদেশ দূতাবাস বাগদাদ, Iraq Ministry of Labour and Social Affairs
এই লেখাটি কি সহায়ক হয়েছে?
Scroll to Top